খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত এই শেষ ম্যাচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেল স্বাগতিকরা। সিরিজের এই চূড়ান্ত পরাজয়ের পর ম্যাচ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। সেখানে তিনি দলের সিরিজ হারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাটিং ইউনিটের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেন এবং ব্যাটারদের ওপর নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
Table of Contents
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন পরাজয় হতাশাজনক কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সর্বশেষ কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল যেভাবে ক্রিকেট খেলেছে, সেই ধারাবাহিকতার নিরিখে এই সিরিজের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হারার পরও দলের ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মনোভাব ও মানসিকতা দেখে আমি বেশ সন্তুষ্ট ছিলাম। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯০ রান করা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করা সত্যিই ভালো লক্ষণ ছিল।”
তবে প্রথম ম্যাচ এবং শেষ ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিল সিমন্স আরও যোগ করেন, “প্রথম ম্যাচ এবং আজকের (তৃতীয়) ম্যাচের পারফরম্যান্স, বিশেষ করে আমাদের পুরো ব্যাটিং ইউনিট অত্যন্ত হতাশাজনক চিত্র প্রদর্শন করেছে। আমরা আমাদের বোলারদের ডিফেন্ড করার মতো বা ম্যাচ জেতানোর মতো ন্যূনতম কোনো পুঁজি এনে দিতে পারিনি। বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।”
দলের খেলার ধরণ এবং কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধান কোচ স্পষ্ট জানান, এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারার বিষয় নয়, বরং দল হিসেবে মাঠে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা। ফিল সিমন্স বলেন, “এটা কেবল একটি সিরিজ নিয়ে কথা বলার জায়গা নয়। মূল ব্যাপার হলো আমরা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ঠিক কীভাবে খেলতে চাই, সেটি নির্ধারণ করা। আধুনিক ক্রিকেটের দাবি অনুযায়ী আমরা অবশ্যই দ্রুত রান তুলতে চাই এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই। তবে একই সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতি বুঝে দেখেশুনে খেলাটাও অত্যন্ত জরুরি।”
ম্যাচের সুনির্দিষ্ট মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে কোচ বলেন, “আজকের ম্যাচে ওপেনার তামিমের উইকেটটি পড়ে যাওয়ার পর মিডল অর্ডারের বাকি ব্যাটাররা প্রায় সবাই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিজের মাঝখানে এসে কাউকে না কাউকে তো দলের হাল ধরতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু আজ তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কোনো ব্যাটার সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। কেবল হৃদয়ই এক প্রান্ত ধরে রেখে লড়াই করার চেষ্টা চালিয়েছেন, যা দলগতভাবে মোটেও কাম্য নয়।”
দলের নিয়মিত এবং অন্যতম সেরা ব্যাটার লিটন দাসের অনুপস্থিতি ও তাকে মিস করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান কোচ। তিনি লিটনের ক্লাসের প্রশংসা করে বলেন, “লিটন দাসের ব্যাটিং শৈলী এবং তার যে ক্লাস, সেটি যেকোনো ম্যাচেই দল মিস করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে একজন খেলোয়াড় যখন ইনজুরিতে বা চোটের কারণে দলের বাইরে থাকেন, তখন তো খেলা বন্ধ থাকে না; আমাদের খেলে যেতে হবে এবং ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। দলের বাকি যারা আছেন, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে এবং ভালো পারফর্ম করতে হবে। লিটন দলে থাকলেও তো যেকোনো দিন একটি ভালো বলে আউট হয়ে যেতে পারেন। ক্রিকেটে আউট হওয়ার জন্য একটি বলই যথেষ্ট। প্রধান বিষয় হলো, দলের প্রধান ব্যাটাররা দ্রুত আউট হয়ে গেলে সেই পরিস্থিতি ও চাপ বাকিদের সামলাতে হবে।”
পুরো সিরিজের সার্বিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফিল সিমন্স ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সিরিজের প্রথম ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা থাকলেও, দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ছেলেরা নিজেদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করার জন্য নেটে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তার ফলশ্রুতিতে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ব্যাট হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং লড়াই করার মতো স্কোর সংগ্রহ করেছিলাম। গত কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আমার বিশেষ কোনো আপত্তি বা অভিযোগ নেই। তবে এই নির্দিষ্ট সিরিজ, বিশেষ করে আজকের শেষ ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে একটি বড় ধাক্কা।” প্রধান কোচের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর পূর্বে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের এই ধারাবাহিকতাহীনতা দূর করাই হবে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য