ইরানের বদলে ইতালিকে নেওয়ার প্রস্তাব

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত এ প্রস্তাব দেন বলে বুধবার প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং এ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সামনে আসে। একই সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতিও এই প্রস্তাবের পেছনে একটি প্রাসঙ্গিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি জানান, তিনি ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবল ঐতিহ্য ও সামর্থ্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের উপযোগী। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই আসরে ইতালির অংশগ্রহণকে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, ফিফা, ইতালি ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।

অন্যদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইতালি প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় দলটি।

ইরান ইতোমধ্যে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর দলটির ম্যাচ সূচি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও ওঠে।

পরবর্তীতে তুরস্কে ইরান দলের অনুশীলন পরিদর্শনে গিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপের সব ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ইরান দলের প্রস্তুতিতে সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, দলটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর।

বিশ্বকাপের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো দেশ অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ালে সেই শূন্যস্থান পূরণে ফিফা নিজস্ব বিবেচনায় অন্য দেশকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এই ক্ষেত্রে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন চাইবে, সুযোগটি যেন এশিয়ার কোনো দেশ পায়।

এ প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে উঠে আসতে পারে, যারা বাছাইপর্বে ইরাকের কাছে হেরে প্লে-অফে বাদ পড়ে। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত—১৯৯০ সালে একবার অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় দলটি।

নিচে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরা হলো—

বিষয়ইরানইতালিসংযুক্ত আরব আমিরাত
২০২৬ বিশ্বকাপ যোগ্যতাঅর্জন করেছেব্যর্থব্যর্থ
সর্বশেষ অংশগ্রহণধারাবাহিকভাবে২০১৪১৯৯০
বিশ্বকাপ শিরোপানেই৪ বারনেই
বর্তমান অবস্থাঅংশগ্রহণ অনিশ্চিতপ্রস্তাবিত বিকল্পসম্ভাব্য বিকল্প

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর কথা।

এদিকে, ইরানের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তবেই অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

দুনিয়ামালি আরও জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই থাকুক, জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। যদি শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে দলকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।