ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা, সর্ব উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। সীমান্তবর্তী ও হিমালয়ের কিছুটা কাছাকাছি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা দিয়েছে আগাম শীত। শীত নিবারণের জন্য ব্যবহার হয় লেপ। জেলায় আগাম শীত দেখা দেয়ায় লেপের চাহিদাও বেড়েছে এখন থেকে। তাই লেপ তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।  এ শীতকে কেন্দ্র করে এ জেলায় জমে ও লেপের বিক্রি। এবারও অনেক বেশি শীত পড়ায় এর ব্যতিত্রক্রম হয়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

 

ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

 

জেলায় শীতের আনাগোনা শুরু হওয়ায় মানুষের লেপের চাহিদা বাড়াই লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষক তৈরির কারিগররও তুলা ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার রাত ৮টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি বাজারের লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। দিন রাত নাওয়া খাওয়া ভুলে কাজ করছে শ্রমিকরা।

কালিবাড়ি তুলা ঘরের কারিগর আবুল কাশেম জানান, তিনি গত ৪০ বছর থেকে লেপ তৈরির কাজ করে আসছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগাম শীতের কারণে লেপের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনে একজনে ৬ থেকে ৮টা পর্যন্ত  লেপ তৈরি করেন তারা।

এতে তারা প্রতি লেপ সেলাইতে মজুরি পান ১৫০ টাকা। এবার তাদের কাজের চাপ এখন থেকেই বেড়েছে। তাই সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করছেন। কাজের চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে কালিবাড়ি মিন্টু তুলা ঘরের কারিগর দুলাল জানান, এখন জাজিমের চাহিদার থেকে লেপের চাহিদা বেশি হলেও জাজিমের চাহিদাও কম না।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

আমরা প্রতি জাজিমে সেলাই মজুরি পাই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। দুই জন কারিগর মিলে দিনে কমপক্ষে ৪টি জাজিম তৈরি করতে পারেন তারা। কারিগর সুমন ইসলাম জানান, অন্যান্য মৌসুমে দিনে ২ থেকে ৩টি করে লেপ তরির কাজ পাওয়া গেলেও বর্তমানে শীত শুরু হতে না হতেই দিনে ১২ থেকে ১৭ টা পর্যন্ত লেপ সেলাইর কাজ হয় তাদের। এ কাজ চলে ২/৩ মাস মাত্র।

তারপরে সারা বছর জাজিম আর তোষক বানাই। সে কারণে এ শীতে বেশি লেপ বানিয়ে ব্যবসায় করতে হবে।  কারিগর আইনুল হক জানান, এখানে, কার্পাস, পলি, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রকার তুলা পাওয়া যায়। কার্পাস তুলা লেপ তৈরির জন্য সব থেকে ভালো। কার্পাস তুলার বর্তমান বাজার মূল্য ২০০ টাকা কেজি।

কালিবাড়ি তুলা ঘরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মমিন জানান, গতবার নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের তুলনায় এবার নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মাসে তুলনামূলকভাবে লেপ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিভিন্ন প্রকার তুলা ও কাপড় অনুযায়ী লেপ প্রতি দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন মাপের লেপ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫’শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত

 

ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

 

অন্যদিকে মিন্টু তুলা ঘরের স্বত্বাধিকারী মিন্টু জানান, এবার হঠাৎ করে আগাম শীত শুরু হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে। এতে কারিগররাও অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করছেন বিধায় তাদের একটু কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে লেপ তৈরির বিভিন্ন মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপের দামও একটু বেশি। তারপরেও অনেক মানুষ লেপ বানাচ্ছেন। ডেলিভারি দিয়ে শেষ করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

লেপ-তোষক তৈরির পাশাপাশি বিছানার চাদর, বালিশ ও বালিশের কভারসহ দরজা জানালার পর্দার কাপড় বিক্রি করা হচ্ছে এসব দোকানে। লেপ-তোষকের এ সব দোকানের কারিগরদের ব্যস্ততা দেখে মনে হচ্ছে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে তাদের কাজের চাপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও দেখুনঃ

 

Leave a Comment