ইমামউদ্দিন আহমদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

ইমামউদ্দিন আহমদ ‍ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন ও ১৯৭৩ সালে ফরিদপুর-৫ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

ইমামউদ্দিন আহমদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

ইমামউদ্দিন আহমদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রারম্ভিক জীবন

ইমামউদ্দিন আহমাদ ১৯৩৫ সালের ২ জুলাই ফরিদপুর শহরের শহরতলী কমলাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নাসির উদ্দিন আহমেদ। তৎকালীন বৈরাগী স্কুল (বর্তমান টেপাখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) থেকে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন ও অবদান

ইমামউদ্দিন ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ফরিদপুর জেলায় ১৯৫২ সালে সংগঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ইমামউদ্দিন ভাষা আন্দোলনে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রাদেশিক সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সদস্য হন এবং পরবর্তীতে দলটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। ভাষা সৈনিক ১৯৭৩ সালে ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। ইমাম উদ্দিন আহমাদ ফরিদপুরের শিক্ষা ক্ষেত্রে ৪৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। 

ব্যক্তিগত জীবন

ইমামউদ্দিন ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫৪ সালে বেগম রুশেমা ইমামের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর সদরের কি পাইলাম মোড় নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

সংসদ সদস্য:

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

ইমামউদ্দিন আহমদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment