খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দুই তরুণ সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোররাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি দ্রুতগামী বাসের চাপায় প্রাণ হারান তারা।
নিহত দুই সাংবাদিক হলেন প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক সাকিবুল হাসান। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। সাকিবুল হাসান উত্তরা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক এবং রবিউল আলম রাজু আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুই সহকর্মীর এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে উত্তরা প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই খেলাটি দেখার জন্য উত্তরা এলাকায় বড় পর্দার আয়োজন করা হয়েছিল। দুই সাংবাদিক সেখানে বসেই একসঙ্গে খেলা উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভোররাতের দিকে তারা নিজ নিজ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা যখন জসিমউদ্দীন রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা পার হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একটি অনিয়ন্ত্রিত বাস তাদের প্রচণ্ড গতিতে চাপা দিয়ে চলে যায়।
বাসের ধাক্কায় দুজনেই পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর আঘাত পান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এবং পথচারীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাদের দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে এবং দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাতক বাসটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চালক ও তার সহকারী ঘটনার পরপরই বাস নিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য