খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের জালে মাছের বদলে একটি গ্রেনেড উঠে আসার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে সেটিকে মূল্যবান কোনো ধাতব বস্তু মনে করে বাড়িতে নিয়ে গেলেও পরে পরিবারের সদস্যদের সতর্কতায় বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রেনেডটি নিরাপদে উদ্ধার এবং নিষ্ক্রিয় করে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহীর চারঘাট থানার রাওথা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার সময় তার জালে একটি ছোট আকারের কিন্তু ভারী বস্তু আটকে যায়। কর্দমাক্ত অবস্থায় থাকায় তিনি প্রথমে সেটিকে মূল্যবান কোনো ধাতব বস্তু বা ব্যবহারযোগ্য জিনিস বলে মনে করেন এবং বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে এনে বস্তুটি পরিষ্কার করার সময় সাইদুরের ছেলে সাব্বির রহমান সেটির গঠন ও আকৃতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করে ধারণা করেন, এটি একটি বোমা বা গ্রেনেড হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আর দেরি না করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।
৯৯৯-এ খবর পৌঁছানোর পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চারঘাট থানা, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং জেলা পুলিশ কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়। জরুরি কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল ইয়াছিন আরাফাত। পুরো ঘটনায় কলকারী এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপাচার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম।
খবর পাওয়ার পর চারঘাট থানা পুলিশের সদস্য এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করে সেটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি না হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডটি কীভাবে পদ্মা নদীতে এল বা কতদিন ধরে সেখানে পড়ে ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক বা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইদুরের পরিবারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার ফলে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য