খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩১ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের সিরাজনগর মধ্যপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা ডিবি দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আব্দুল আওয়াল ঝন্টু (৪৫), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আমির হোসেন রনি (৪০), মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সেলিম ভান্ডারী (৪২), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মান্নান (৪২) এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার এজাজ (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি দক্ষিণের একটি দল সোমবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে সিরাজনগর মধ্যপাড়া এলাকায় যায়। সেখানে জাকির হোসেনের মার্কেটের সামনে পাকা সড়কে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি শুরু করেন সদস্যরা।
একপর্যায়ে তাদের তল্লাশি করা হলে ৭০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
ডিবি দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
কেরানীগঞ্জ রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও সংযোগপথ দিয়ে মানুষের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও হয়ে থাকে। ফলে মাদক পরিবহন ও কেনাবেচা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোথা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং তাদের সঙ্গে মাদক সরবরাহ বা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আরও কেউ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তদন্তে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস ও সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মাদক সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মন্তব্য