জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৬:১৪ পিএম

নেইমারের এমন আচরণ এখন সান্তোসে একেবারে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মাঠে তিনি খেলছেন, কখনো গোলও করছেন, আবার তাঁর আচরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা আলোচনা। তবে দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার একটা আবহ তৈরি হয়েছে। আর সেই আবহেই সামনে আসছে সম্ভাব্য নতুন গন্তব্যের নাম—ইন্টার মায়ামি।
নেইমারের বয়স এখন ৩৪। সান্তোসের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি সান্তোসেই থাকবেন, অন্য কোনো ক্লাবে যাবেন, নাকি ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের আগে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ বেছে নেবেন—কোনোটিই এখন নিশ্চিত নয়।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইন্টার মায়ামির নামটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ সেখানে রয়েছেন নেইমারের পুরোনো বন্ধু ও বার্সেলোনার সতীর্থ লিওনেল মেসি। একই দলে আরও আছেন লুইস সুয়ারেজ। ফলে নেইমার মায়ামিতে যোগ দিলে বহু বছর পর আবারও ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারেন মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের সেই বিখ্যাত ত্রয়ীকে।
এই ত্রয়ীর স্মৃতি এখনো ইউরোপীয় ফুটবলে উজ্জ্বল। বার্সেলোনায় ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজ মিলে গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ। তাঁদের নামের আদ্যক্ষর থেকে পরিচিতি পেয়েছিল ‘এমএসএন’।
তিন মৌসুমে তাঁরা বার্সেলোনাকে এনে দেন নয়টি শিরোপা। এর মধ্যে ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ঐতিহাসিক ট্রেবল। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনজন মিলে করেছিলেন ১২২ গোল—মেসি ৫৮, নেইমার ৩৯ এবং সুয়ারেজ ২৫। শুধু গোলসংখ্যাই নয়, তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, পাসিং, গতি ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে প্রায়ই অসহায় করে তুলত।
নেইমার ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সাঁ জার্মাঁয় যোগ দেওয়ার পর সেই ত্রয়ী ভেঙে যায়। এরপর তিন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার তিন ভিন্ন পথে এগিয়েছে। মেসি পরে প্যারিস সাঁ জার্মাঁ হয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। সুয়ারেজও মেসির সঙ্গে আবারও ক্লাব ফুটবলে মিলিত হন মায়ামিতে। নেইমারের পথ তাঁকে নিয়ে যায় আল হিলালে, এরপর তিনি ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে।
এখন আবার তাঁদের একসঙ্গে দেখার সম্ভাবনাই ফুটবল বিশ্বে আগ্রহ তৈরি করেছে।
ইন্টার মায়ামির মালিকানাধীন প্রকল্পের অন্যতম মুখ ডেভিড বেকহামের ক্লাবটি ইতিমধ্যেই মেসি-সুয়ারেজ যুগে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থদের একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি মায়ামির বাণিজ্যিক আকর্ষণও বাড়িয়েছে। নেইমার যোগ দিলে সেই আবেদন আরও বাড়তে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
কারণ নেইমারের বয়স এবং সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাসকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক চোট তাঁর ক্যারিয়ারের গতি বারবার থামিয়েছে। তাঁর পায়ে এখনও অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে যায়নি। কিন্তু দীর্ঘ মৌসুমে নিয়মিত ম্যাচ খেলা এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের শারীরিক চাপ সামলানো তাঁর জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান্তোসও তাই নেইমারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ফলে মায়ামি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য এই পরিবর্তনকে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে নেইমারের জন্য মেসির উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় আকর্ষণ। জাতীয় দল ও বার্সেলোনার দীর্ঘ সম্পর্কের পর দুজনের বন্ধুত্ব এখনো অটুট। সুয়ারেজও তাঁদের পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনজনকে একই ক্লাবে দেখা গেলে সেটি শুধু ফুটবলীয় পুনর্মিলন হবে না; আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে স্মরণীয় আক্রমণভাগগুলোর একটির নতুন অধ্যায়ও হতে পারে।
অবশ্য ফুটবল শুধু আবেগের গল্প নয়। বয়স, চোট, পারফরম্যান্স, চুক্তি এবং ক্লাবের পরিকল্পনা—সবকিছুর হিসাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নেইমারকে নিয়ে মায়ামির আগ্রহ বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
একসময় বার্সেলোনার কাম্প ন্যুতে মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার যে আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে বিশ্ব মাতিয়েছিলেন, সেই দৃশ্য হয়তো আবার দেখা যেতে পারে। এবার মঞ্চ হতে পারে মায়ামি। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তব হবে কি না, তার উত্তর এখনো নেইমারের হাতেই।
মন্তব্য