খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ফরিদুল ইসলাম (৫৫) আহত হয়েছেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সটির পাশে রাখা নয়টি মোটরসাইকেলেও। এতে হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুপুরে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুল্যান্স রাখা ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে অ্যাম্বুল্যান্সটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই অ্যাম্বুল্যান্সে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
বিস্ফোরণের সময় অ্যাম্বুল্যান্সের কাছেই ছিলেন চালক ফরিদুল ইসলাম। আগুনের তীব্রতা দেখে নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি হাসপাতালের সামনের পুকুরে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অ্যাম্বুল্যান্সে আগুন লাগার পর তা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাম্বুল্যান্সটির দুই পাশে রাখা মোটরসাইকেলগুলোও আগুনের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নয়টি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। এতে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনের অংশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পুরো হাসপাতাল চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ধোঁয়া হাসপাতালের ভবনের ভেতরেও ঢুকে যায়। এতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়। রোগীদের স্বজনদের অনেকে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হাসপাতালের মূল ভবনের কাছাকাছি আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন হাসপাতালের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েনি। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, পুরোনো ভবনের সামনে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ফরিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুল্যান্সটি এবং পাশে থাকা নয়টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে গ্যাস সিলিন্ডারটি ঠিক কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত তাপ, সিলিন্ডারের কারিগরি ত্রুটি, গ্যাসের লিকেজ কিংবা সংযোগ ব্যবস্থার কোনো সমস্যার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই ঘটনায় নির্দিষ্ট কারণ জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
হাসপাতালের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় বেশি উদ্বেগের বিষয়। কারণ, সেখানে থাকা অনেক রোগী নিজেরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন না। ফলে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুল্যান্সসহ যানবাহন রাখার স্থান, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা যথাযথ থাকা জরুরি।
এ ঘটনায় প্রাণহানির খবর না থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে আগুন অ্যাম্বুল্যান্স থেকে একাধিক মোটরসাইকেলে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি হাসপাতাল চত্বরে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য