রোববার বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই বছর বয়সী দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। এই ছোট্ট দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার খবরে পুরো এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।
রোববার সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে উপজেলার মালীগাঁও ইউনিয়নের তালেরছেও গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু দুটি হলো— ওই গ্রামের ইসমাইল মিয়াজীর ছেলে আয়ান এবং জাহিদুর রহমানের ছেলে আদিল। দুজনেরই বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। সমবয়সী এই দুই চাচাতো ভাই সবসময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত, আর তাদের এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির উঠান কিংবা আশপাশে খেলার একপর্যায়ে পরিবারের অগোচরে সবার অজান্তে বাড়ির পাশের ডোবা বা জমে থাকা পানির দিকে চলে যায় শিশু দুটি। সন্ধ্যার প্রাক্কালে হঠাৎ তাদের দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পানিতে দুজনকে ভাসতে দেখতে পান তারা। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পানিতে নেমে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর দেখা যায় দুজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাদের দাউদকান্দি মালীগাঁও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন দুই শিশুকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আল-আমিন মিয়াজী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সন্ধ্যায় দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেছিলেন তাদের স্বজনেরা। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামীণ জনপদে অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর এমন ঘটনা ইদানীং উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের প্রতি পরিবারগুলোকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য