জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন মিয়া এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। বর্তমানে তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তবে পৈতৃক ভিটা ছেড়ে তিনি কয়েক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করে আসছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। তবে ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। নেটদুনিয়ায় ‘রিপন ভিডিও’ নামে তার একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে উত্ত্যক্ত করছিলেন রিপন মিয়া। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ঘরে ঢোকেন এবং কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে মেয়েটির কাছ থেকে মানসিক যন্ত্রণা ও শারীরিক নির্যাতনের কথা জানতে পেরে পরিবার ও আশপাশের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে এই গুরুতর ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার এক বিতর্কিত ও অনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারের কাছে বিএনপির কার্যালয়ে এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে রিপনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সেই সালিস বৈঠকের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলায় আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে রফা করার চেষ্টা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেটদুনিয়া ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় নেত্রকোনা মডেল থানার দ্বারস্থ হয় এবং লিখিত মামলা দায়ের করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
অনলাইন দুনিয়ার পরিচিত এক মুখ এমন অপকর্মে জড়িয়ে পড়া এবং বিচার এড়াতে সালিস ডাকার খবরে পুরো উপজেলায় তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন এলাকাবাসী।
মন্তব্য