জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:১৭ পিএম

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রায়হান চক্র। চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে রায়হানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। একই সঙ্গে তারা রায়হান চক্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত বলে পুলিশের দাবি।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনার পর মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের পরিচয় শনাক্তের পর দিদার আলম ও আফসার মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও পুলিশ দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ছয়টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। এ সময় একটি বসতঘরের পেছনে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলো কীভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এগুলো কোনো অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এই অভিযানকে জেলার সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তৎপরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও পেশাদার আভিযানিক কৌশলের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য