র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব হত্যা: কক্সবাজারে এজাহারভুক্ত আসামি আলীরাজ গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধী ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ডিএডি আবদুল মোতালেব নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় অভিযুক্ত এই আসামিকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-৭।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সঙ্ঘবদ্ধ হামলা

গত ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযানে যায় র‌্যাবের একটি দল। অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু গোষ্ঠী অতর্কিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর জখম হন।

তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি আবদুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় আহত অন্য তিনজন র‌্যাব সদস্য এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাব-৭ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করে।

ঘটনা ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি:

তথ্যের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
নিহত কর্মকর্তাডিএডি আবদুল মোতালেব (র‌্যাব-৭)।
আক্রান্ত সদস্যের সংখ্যা৪ জন (১ জন নিহত, ৩ জন চিকিৎসাধীন)।
আসামির পরিচয়আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর (৩০)।
গ্রেফতারের স্থানসুগন্ধা পয়েন্ট, কক্সবাজার।
হামলাকারী দল৪০০-৫০০ জনের এক বিশাল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
মামলার ধারাদণ্ডবিধি অনুযায়ী হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা।
বর্তমান অবস্থামূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত।

অভিযান ও গ্রেফতারের বিবরণ

ডিএডি আবদুল মোতালেব হত্যার পর থেকেই পলাতক আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট জানতে পারে যে, মামলার অন্যতম আসামি আলীরাজ হাসান সাগর সীতাকুণ্ড থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের একটি আবাসিক এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর থানার সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস দল। অভিযানে পালানোর সুযোগ না দিয়েই আলীরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ধৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সীতাকুণ্ড থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশাসনের অবস্থান

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে অপরাধী ও অবৈধ দখলদারদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। সেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর এই ধরণের গণহামলা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের এবং হামলায় অংশগ্রহণকারী বাকি অপরাধীদের ধরতে জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশপাশ এলাকায় চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন সহকর্মীর রক্তের ঋণ শোধ করতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

উপসংহার

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ডিএডি আবদুল মোতালেবের মৃত্যুতে সমগ্র বাহিনীতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলীরাজ হাসান সাগরের গ্রেফতার এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, এই এলাকার সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের গডফাদারদের দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সম্মুখযোদ্ধাকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।