জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমে আসার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতনের কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৪,০৮৭.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসের দামও ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,০৮৯.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং আর্থিক বাজারের গতিপ্রকৃতি একসঙ্গে স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আবার ডলারের মান কমে গেলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জ্বালানির দাম কমলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা না চালালে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে বোমা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এখন বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টি রয়েছে ২৮ ও ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। বাজারের ধারণা, এবারের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনও উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বর্তমান বাজারমূল্যায়ন অনুযায়ী, সেই সম্ভাবনা প্রায় ৭৬ শতাংশ।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই সময়ে রুপার দাম ১.৭ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১.৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুর সামগ্রিক বাজারেও নতুন করে আস্থা ফিরে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভর করবে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলারের বিনিময় হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয়ই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য