জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫ পিএম

দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সংশয় ও উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং আইনগত ভিত্তি ছাড়া কোনো টুথপেস্ট কিংবা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যকে ক্ষতিকর বা নিম্নমানের বলে দাবি করা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়।
মঙ্গলবার বিএসটিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার কথা বলা হলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিএসটিআই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার থেকে বিভিন্ন টুথপেস্টের পাশাপাশি উৎপাদনকারী কারখানার কাঁচামালের নমুনা সংগ্রহ করে তা দেশি-বিদেশি স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পুনর্নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় কোনো পণ্য নির্ধারিত জাতীয় মান অর্জনে ব্যর্থ হলে বা অনুমোদিত উপাদানের বাইরে কোনো কিছু ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মিলেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ভোক্তাদের মনে তীব্র অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত অতিসূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা, যা আকারে ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়েও ছোট হওয়ায় সাধারণ খালি চোখে দেখা প্রায় অসম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশগত উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ালেও মানুষের শরীরে এর প্রত্যক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব কতটুকু, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনো চলমান রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে টুথপেস্টের মতো প্রসাধনী পণ্যে কৃত্রিম মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রসাধনীতে এমন প্লাস্টিক বর্জনের জন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তবে ভারত, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে বা বিশ্বমানের মানদণ্ডে পণ্য তৈরির সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চলে আসা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনীয় মাত্রা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনো সর্বসম্মত নির্দেশিকা তৈরি হয়নি।
বিএসটিআই আরও স্পষ্ট করেছে যে বাংলাদেশে টুথপেস্ট প্রস্তুতের জন্য অনুমোদিত ৮১টি কাঁচামালের তালিকায় কোনো প্রকার প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্থান নেই। ফলে সরকারের থেকে অনুমোদন পাওয়া বৈধ কোনো কারখানা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ অন্তত নেই। ল্যাবে কোনো প্লাস্টিক কণা পাওয়া মানেই প্রস্তুতকারক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা মিশিয়েছে কিংবা তা তৎক্ষণাৎ স্বাস্থ্যের ওপর বিষাক্ত প্রভাব ফেলবে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর উৎস ও পরিমাণ নিয়ে আরও সূক্ষ্ম ও বিশদ চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
ইতোমধ্যেই বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের পরীক্ষার পদ্ধতি ও মূল নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারকদের কাছে পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক পলিমার ও কাঁচামালের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন, অভিজ্ঞ দন্তচিকিৎসক ও ভোক্তাদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিদ্যমান জাতীয় মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় চূড়ান্ত ক্ষতিকর প্রমাণ মিললে আন্তর্জাতিক প্রথার সঙ্গে মিল রেখে টুথপেস্টে প্লাস্টিক প্লাস্টিক-মাইক্রোবিডের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, প্যাকেটে সঠিক উপাদান লেখা বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মান যাচাইয়ের প্রচলিত আইন সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হবে।
মন্তব্য