জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ফেনীর চাঞ্চল্যকর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক ও নথি উপস্থাপন শেষে আদালত বুধবার আবারও পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীর এই বহুল আলোচিত হত্যা মামলার পেছনের সব আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানি চলাকালে আজ রাষ্ট্রপক্ষে কেস ডকেট উপস্থাপন শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন এবং শিক্ষার্থী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়েড়, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর এবং নৃশংস ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দায়ের করা মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। বিশেষ এই বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনি টিম গঠন করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে, নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য নিম্ন আদালতের যাবতীয় নথি ‘ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে শুনানি শেষে হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় প্রদান করবেন।
মন্তব্য