খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:১৫ পিএম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গভীর রাতে এক দুর্ধর্ষ ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর বসতঘর একটি বড় খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। শুধু ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ঘরটিতে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের পর পুরো বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী এলাকায় এই তাণ্ডব চালানো হয়। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিপার্শ্বিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর ওই বসতবাড়িতে কেবল তাঁর স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা বসবাস করতেন। তবে কাকতালীয়ভাবে, ঘটনার সময় চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁরা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িটি একদম জনমানবহীন ও ফাঁকা থাকার পূর্ণ সুযোগ নেয় স্থানীয় একদল দুর্বৃত্ত। মাঝরাতে তারা বিশাল ভেকু গাড়ি নিয়ে এসে বাড়িটিতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং চোখের পলকে পুরো ঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
টেলিফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিল্পী বেগম বলেন:
“আমি চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েক দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি। বাড়ি খালি থাকার সুযোগ নিয়ে গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী প্রথমে আমাদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর ভেকু দিয়ে আমাদের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই পুরো ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ঘরে থাকা দামী আসবাবপত্র ও আলমারি ভেঙে সব স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান যা কিছু ছিল সব লুট করে নিয়ে গেছে। লুটপাট শেষে তারা পুরো ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
তিনি আরও জানান, গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে তড়িঘড়ি করে এলাকায় ফিরে তিনি দেখেন তাঁর সাজানো সংসারের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ঘটনাটি তিনি ইতিমধ্যেই স্থানীয় কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেছেন।
এদিকে ঘটনার মূল ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজি মিজানুর রহমান লাভলুর সাথে কথা বলার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গভীর রাতের অন্ধকারে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। তারা ওখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য