খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দুই দেশের ফুটবলীয় ইতিহাস, আবেগ আর মাঠের বাইরের বৈরিতার কারণে এই ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী বৃহস্পতিবারের এই মহাদ্বৈরথকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে নিয়ে নিজের বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ইংলিশদের তিনি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না, বরং হ্যারি কেইনদের শেষ চারে ওঠা তাঁর কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়।
ফিফাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলভারেজ আসন্ন এই মহারণ নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইংল্যান্ড অত্যন্ত গোছানো এবং শক্তিমত্তা সম্পন্ন একটি দল। তাদের স্কোয়াডে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা রয়েছেন। তাই তারা নকআউট পর্বের বাধা টপকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। আমরা খুব ভালো করেই জানি, ফাইনালে ওঠার এই লড়াই আমাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।”
প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও আলভারেজের মূল লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কাটা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের এই তরুণ ফরোয়ার্ড দলের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন, “আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনাকে আবারও সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে বসাতে আমরা মাঠের খেলায় নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেব।”
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় দ্বৈরথের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক পটভূমি। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে পাঁচ ইংলিশ ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র স্মৃতি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে তরতাজা। তবে অতীত ইতিহাসের সেই আবেগ আর মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দিতে চান না আলভারেজ।
তিনি বেশ পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি যে এই ম্যাচটি আমাদের দেশের মানুষের কাছে কেন এত বিশেষ। সেটা আলাদা করে নতুন করে ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে দিনশেষে সব আবেগ সরিয়ে রাখলে এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ, যেখানে যে দল মাঠে সেরাটা দেবে তারাই জিতবে।”
চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই আলভারেজকে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আলভারেজের ভাষ্যমতে, “এবারের আসরে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এই আলবিসেলেস্তে দলটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দুর্দান্ত ক্ষমতা। আমরা ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে জানি।”
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে নিজের মহাতারকা সতীর্থ লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করেন আলভারেজ। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি মেসির পায়ের জাদু দেখে বড় হয়েছি। এখন জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর সঙ্গে একই মাঠে খেলার সুযোগ পাওয়া এবং দেশের হয়ে বড় কিছু অর্জনের লড়াইয়ে তাঁকে সরাসরি সাহায্য করতে পারা আমার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো।” এখন দেখার বিষয়, আলভারেজ-মেসি জুটি ইংলিশ বাধা পেরিয়ে আর্জেন্টাইনদের আবারও উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিতে পারেন কি না।
মন্তব্য