খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০২৬ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম দুই শক্তিশালী পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আজ দিবাগত রাত একটায় (বাংলাদেশ সময়) শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে দুই দলের সেমিফাইনালের অতীত রেকর্ড, ঐতিহ্য এবং সাফল্যের পরিসংখ্যান ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মঞ্চে ফ্রান্সের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০২৬ সালের এই আসরসহ ফরাসিরা এখন পর্যন্ত মোট আটবার শেষ চারে পা রাখার গৌরব অর্জন করেছে। এর আগে খেলা সাতটি সেমিফাইনালের মধ্যে চারটিতে জয় এবং তিনটিতে হেরেছে তারা। তবে সময়ের সাথে সাথে সেমিফাইনালের মঞ্চে নিজেদের এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ফরাসিরা।
ফ্রান্সের সেমিফাইনাল অভিযানের শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক ও যন্ত্রণাদায়ক। ১৯৫৮ সালে তারা পেলের জাদুকরী ব্রাজিলের কাছে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। এরপর ১৯৮২ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে নাটকীয়ভাবে হেরে যাওয়ার পর, ১৯৮৬ সালের আসরেও একই প্রতিপক্ষের কাছে তারা ২-০ গোলে পরাজিত হয়।
তবে ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিকে প্রথমবার সেমিফাইনালের গেরো খোলে ফরাসিরা। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে এবং শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলে। এরপর থেকে সেমিফাইনালে ফ্রান্স রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য এক শক্তি। ২০০৬ সালে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে, ২০১৮ সালে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এবং ২০২২ সালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা ফাইনালের টিকিট কেটেছিল। এবার জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি গড়ল ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের পদচারণা ফ্রান্সের তুলনায় বেশ সীমিত। তবে এই ধাপে দলটির সাফল্যের হার শতভাগ। যখনই তারা সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে, তখনই ফাইনাল নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে।
স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র অফিশিয়াল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালটি খেলেছিল ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। সেবার ডারবানে শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল তারা। কার্লেস পুয়োলের দুর্দান্ত এক বুলেট হেডার গোলে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল লা রোজা। পরবর্তীতে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা নিজেদের ইতিহাসের একমাত্র সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিল।
এর আগে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। তবে সেবার প্রথাগত কোনো সেমিফাইনাল বা নকআউট ম্যাচ ছিল না। চার দলের একটি ফাইনাল গ্রুপ পর্বের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে নকআউট সেমিফাইনালের হিসেব অনুযায়ী আজ দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চারের চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে মাঠে নামবে স্পেন। ইউরোপিয়ান ক্লাসিকোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে কার কৌশল ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা উন্মুক্ত করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য