ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমীকরণ নির্ধারণী ম্যাচে জোফরা আর্চারের অলরাউন্ড বা বহুমুখী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩০ রানের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। এই জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ এবং সর্বশেষ দল হিসেবে চলমান আইপিএলের আসরে চূড়ান্ত পর্ব বা প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করলো রিয়ান পরাগের দল। রাজস্থান রয়্যালসের এই জয়ের ফলে তাদের শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও টুর্নামেন্টের অন্য দুই দল পাঞ্জাব কিংস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।
রাজস্থানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও আর্চারের লড়াকু ভূমিকা
মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটাররা শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলের পুরো ইনিংসে বলার মতো বড় কোনো ব্যক্তিগত স্কোর সংগ্রহ করতে পারেননি শীর্ষ সারির কোনো ব্যাটারই।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেল। এছাড়া ওপেনার জশস্বী জয়সওয়াল ২৭ রান এবং দাসুন শানাকা ২৯ রানের দুটি কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। দলের যখন চরম বিপর্যয়, তখন শেষ দিকে মাত্র ১৫ বলের মুখোমুখি হয়ে ৩২ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝড়ো ইনিংস খেলেন বোলার জোফরা আর্চার। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই রাজস্থান রয়্যালস মুম্বাইয়ের সামনে একটি লড়াকু পুঁজি দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
নিচে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান ব্যাটারদের রান সংগ্রহের বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ব্যাটসম্যানের নাম ও ভূমিকা | সংগৃহীত রান | বলের সংখ্যা | ইনিংসের গুরুত্ব |
| ধ্রুব জুরেল (উইকেটরক্ষক) | সর্বোচ্চ রান | উল্লেখ নেই | দলের ইনিংস মেরামত করেন |
| দাসুন শানাকা (ব্যাটসম্যান) | ২৯ রান | উল্লেখ নেই | মধ্যভাগে দলকে এগিয়ে নেন |
| জশস্বী জয়সওয়াল (ব্যাটসম্যান) | ২৭ রান | উল্লেখ নেই | শুরুর বিপর্যয় সামলান |
| জোফরা আর্চার (অলরাউন্ডার) | ৩২ রান | ১৫ বল | শেষ দিকে দ্রুত রান বাড়ান |
মুম্বাইয়ের রান তাড়া ও জোফরা আর্চারের বোলিং তোপ
রাজস্থান রয়্যালসের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। রাজস্থানের পেসার জোফরা আর্চারের করা ইনিংসের প্রথম ও তৃতীয় ওভারে মুম্বাই তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে শুরু করে। প্রাথমিক ছয় ওভার বা পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই মুম্বাইয়ের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার রায়ান রিকেলটন ও তিলক ভার্মা সাজঘরের পথ ধরেন।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে মুম্বাইকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান সূর্যকুমার যাদব, অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া এবং উইল জ্যাকস। কিন্তু রাজস্থানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কেউই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। মুম্বাইয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার যাদব। এছাড়া উইল জ্যাকস ৩৩ রান এবং হার্দিক পান্ডিয়া ৩৪ রান করলেও তা কেবল দলের পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। রাজস্থানের হয়ে বল হাতে মাত্র ১৭ রান খরচ করে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন জোফরা আর্চার। এছাড়া দলের অন্য তিনজন বোলার ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
নিচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং ও রাজস্থানের বোলিংয়ের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যান ও রান | রাজস্থানের সফল বোলার | উইকেট সংখ্যা | খরচ করা রান | ম্যাচের সামগ্রিক ফলাফল |
| সূর্যকুমার যাদব (৬০ রান) | জোফরা আর্চার | ৩টি উইকেট | ১৭ রান | রাজস্থান ৩০ রানে জয়ী |
| হার্দিক পান্ডিয়া (৩৪ রান) | অন্য ৩ জন বোলার | ২টি করে উইকেট | উল্লেখ নেই | রাজস্থান প্লে-অফে উন্নীত |
| উইেল জ্যাকস (৩৩ রান) | উল্লেখ নেই | উল্লেখ নেই | উল্লেখ নেই | পাঞ্জাব ও কলকাতা বিদায় |
পাঞ্জাব কিংস ও কলকাতার বিদায়ের সমীকরণ
রাজস্থান রয়্যালসের এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের কারণে কপাল পুড়েছে টুর্নামেন্টের অন্য দুই শক্তিশালী দল পাঞ্জাব কিংস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের। কেননা আসরের সমীকরণ অনুযায়ী, রাজস্থান রয়্যালস যদি তাদের এই শেষ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে পরাজিত হতো, তবেই কেবল রান রেট এবং পয়েন্টের ভিত্তিতে পাঞ্জাব কিংস অথবা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সেরা চারে বা প্লে-অফে উঠার একটি গাণিতিক সুযোগ টিকে থাকতো। কিন্তু জোফরা আর্চারের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রাজস্থান জয় তুলে নেওয়ায় পাঞ্জাব ও কলকাতার প্লে-অফে যাওয়ার স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় এবং রাজস্থান চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে।
