খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে এক চরম উসকানিমূলক ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক এক শীর্ষ কমান্ডার। তাঁর দাবি, তেহরান যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন তথা হোয়াইট হাউজের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ভেতরে ঢোকার এবং ট্রাম্পকে হত্যা করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক পারদ যখন নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো।
ইরানের স্থানীয় সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফারারুকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি খোলাখুলিভাবে জানান, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া বা হত্যা করাই ইরানের মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শতভাগ সামর্থ্যবান। মোকাদ্দাম জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার যেকোনো সুরক্ষিত এলাকায় বা খোদ হোয়াইট হাউজে ঢুকে এই ধরনের গোপন ও জটিল সামরিক অপারেশন চালানোর মতো কৌশলগত প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে কানানি মোকাদ্দাম শুধু হত্যার হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক আলোচনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যে সংলাপ বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে, তার মূল লক্ষ্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়। বরং এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার তীব্র সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত বিভিন্ন একপাক্ষিক অভিযোগের বিপরীতে ইরানের নিজস্ব অবস্থান ও যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরা।
সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ট্রাম্প ও তাঁর বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ইরান শান্তির সাদা পতাকা নিয়ে কোনো টেবিলে বসছে না। আলোচনার টেবিলকে তারা মূলত নিজেদের রাষ্ট্রীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করার এবং মার্কিন প্রশাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর হওয়া নানা অন্যায়ের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও উপযুক্ত পাল্টা জবাব দেওয়ার বিষয়টি তেহরানের নীতিগত বিবেচনা থেকে এখনো বিন্দুমাত্র বাদ পড়ে যায়নি।
আইআরজিসির সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন স্পর্শকাতর ও সরাসরি হুমকির পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। তবে হোসেইন কানানি মোকাদ্দামের এই প্রকাশ্য হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার, পেন্টাগন কিংবা হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা কড়া মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
মন্তব্য