খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্যাসিনো ও জুয়ার শহর লাস ভেগাসে জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জুয়া খেলার বিপুল খরচের জোগান দিতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে এক নারী আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। বিচিত্র এই কাণ্ডের শিকার স্বামীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাট করেন। তবে আদালতের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর প্রসিকিউশনের সঙ্গে এক সমঝোতায় পৌঁছানোর কারণে ওই নারীর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন বা পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত জিয়াইং চেনের বয়স বর্তমানে ৩৩ বছর। ২০২৪ সালে মার্কিন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি একের পর এক মোট ১৪টি বিয়ের নিবন্ধন বা সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই চতুর নারী নিজের আসল নাম গোপন রেখে ‘ভিকি লিয়াং’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আসছিলেন। এই নামেই তিনি বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং দ্রুত তাদের বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, কোনো পুরুষের সাথে পরিচয় হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। লাস ভেগাসে বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত হওয়ায় এই শহরটিকেই তিনি নিজের অপরাধের মূল চারণভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পরই শুরু হতো তার আসল খেলা। স্বামীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে হঠাৎ করেই সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।
আদালতে প্রসিকিউটরদের দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের আবেগঘন গল্প শোনাতেন। তিনি দাবি করতেন যে, চীনে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক অসুস্থ এবং তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সরল বিশ্বাসে স্বামীরাও স্ত্রীর কথায় সাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তার হাতে তুলে দিতেন।
এই কৌশলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। তবে পুলিশি তদন্তে দেখা যায়, আদায় করা অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র ব্যয় করা হয়নি। এর পুরোটাই উড়েছে লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল ‘উইন ক্যাসিনো’র জুয়ার বোর্ডে। পুলিশের রেকর্ড বলছে, শুধু গত এক বছরেই চেন জুয়া খেলতে গিয়ে ৩ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ খুইয়েছেন। একজন ভুক্তভোগী জানান, চীনে অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন তাকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে তিনি আর এই বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান না।
গত ৯ জুলাই লাস ভেগাসের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে চেন নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। তার বিরুদ্ধে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করায় প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়। একই সাথে আদালত সাজা ঘোষণার সময় তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে।
আগামী ২০ আগস্ট এই মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নেভাদার আইন অনুযায়ী, বহুবিবাহের অপরাধে ১ থেকে ৪ বছর এবং গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে ১ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে প্রসিকিউশনের সাথে বিশেষ আপস-মীমাংসার কারণে চেন হয়তো অল্প সময়ের জন্য কারাগারে থাকবেন অথবা কোনো কারাদণ্ড ছাড়াই পার পেয়ে যেতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিতে পারতেন।
মন্তব্য