খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নাছিমা আক্তার (২৭) নামে এক পোশাকশ্রমিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মজনু মিয়ার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা।
নিহত নাছিমা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
নাছিমার ভাই মাসুম আহমেদ জানান, তিনিও একই এলাকায় আলাদা একটি ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গভীর রাতে একই ভবনের অন্য ভাড়াটিয়ারা তাকে ফোন করে জানালে তিনি দ্রুত বোনের বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, নাছিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এ সময় তার স্বামী সাইদুলকে আর বাসায় পাওয়া যায়নি।
পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় নাছিমাকে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাসুম আহমেদের দাবি, বিয়ের পর প্রথমদিকে নাছিমার দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। তবে পরে সাইদুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি ও ঝগড়া হতো। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি মীমাংসার চেষ্টা করলেও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নাছিমা সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তার অভিযোগ, সেই দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাছিমাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, নাছিমাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এ ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য