খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫০ পিএম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মূর্তি ও ধর্মকে ঘিরে আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি মানি লন্ডারিং মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে পলাশবাড়ী থানা পুলিশও সহযোগিতা করেছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং মামলার ভিত্তিতেই সিআইডি তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তিনি বলেন, হরিদাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছেন। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এটি হরিদাসের বিরুদ্ধে প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর তিনি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। সে সময় তার বিরুদ্ধে ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে বদলি-বাণিজ্য, টেন্ডার সংক্রান্ত প্রতারণা এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। পরে তিনি ওই মামলায় জামিন লাভ করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে আবারও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি মূর্তি ও ধর্মকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, এক পর্যায়ে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে নিজের নাম তাওহীদ ইসলাম রাখেন। একই সময়ে সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বলেও পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্য বর্তমান মানি লন্ডারিং মামলার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সিআইডি এখন তার বিরুদ্ধে থাকা মানি লন্ডারিং অভিযোগের পাশাপাশি পূর্বের বিভিন্ন মামলার নথি, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য অভিযোগও পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পলাশবাড়ী এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য