খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে সার ও ভোজ্যতেল পাচার করে বাংলাদেশে ফেরার পথে এক রোহিঙ্গাসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক করার পর তাদের দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের গুইল্লাখালী পয়েন্টে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য ও মুদ্রা পাচার রোধে বিজিবির নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এই সাফল্য এসেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতদের একজন স্থানীয় নাগরিক এবং অন্যজন শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। তারা হলেন—উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে লোকমান হাকিম (২৫) এবং পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারিরবিল এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে আবছার উদ্দিন (২৮)।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির সদস্যরা আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের গুইল্লাখালী পয়েন্টে অবস্থান নেন। পাচারকারীরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সার ও ভোজ্যতেল অবৈধভাবে পৌঁছে দিয়ে চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করার মুহূর্তেই বিজিবির টহল দল তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, আটক পাচারকারীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় তাদের লুঙ্গি ও কোমরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বাংলাদেশী নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবি জানতে পেরেছে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ এই অর্থ মিয়ানমারে পণ্য পাচারের লভ্যাংশ হিসেবে তারা নিয়ে আসছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ পারাপার ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে চাল, তেল, সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি ওপারে পাচার করার একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ওপার থেকে চোরাইপথে মাদক বা অবৈধ অর্থ এপারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও স্থানীয় ও রোহিঙ্গা অপরাধীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটককৃত দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার ও অবৈধ চোরাচালানের অভিযোগে উখিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত নগদ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এই চক্রের পেছনে স্থানীয় আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন পয়েন্টগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য