খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৮:১০ পিএম

ভারতের নারী ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা স্মৃতি মান্ধানা আবারও নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত আইসিসি আয়োজিত নারী টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমে ভারতের হয়ে ৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এর মাধ্যমে মাত্র ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ ম্যাচ খেলা সর্বকনিষ্ঠ নারী ক্রিকেটারের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
বিশ্ব ক্রিকেটে এটি স্মৃতি মান্ধানার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের মাত্র দ্বাদশ নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ ম্যাচের মাইলফলকে পৌঁছালেন। দীর্ঘদিন ধরে তিন সংস্করণেই ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই ক্রিকেটারের জন্য লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক ভেন্যুতে এমন অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট স্কাইভার-ব্রান্ট। ভারতের একাদশে এই ম্যাচে টেস্ট অভিষেক হয় শ্রী চরণীর। দলে ফেরেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস্তিকা ভাটিয়া। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ঘটে অ্যালিস ক্যাপসি ও ম্যাডি ভিলিয়ার্সের।
মাইলফলক স্পর্শ করার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্মৃতি জানান, ম্যাচের আগের রাত পর্যন্ত তিনি জানতেনই না যে এটি তার ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর এমন একটি উপলক্ষ যে লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক মাঠে আসবে, সেটি তার কাছেও ছিল বিশেষ আবেগের।
স্মৃতি স্মরণ করেন ২০১৭ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালের কথা, যেখানে এই লর্ডসেই খেলেছিলেন তিনি। সেই টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় হতাশ ছিলেন। এমনকি তখন মনে হয়েছিল, হয়তো আর কখনো ভারতের হয়ে লর্ডসে খেলার সুযোগ নাও আসতে পারে। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান অর্জনের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, লর্ডসে ভারতের জার্সিতে ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারা তার ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
ভারতের সহ-অধিনায়ক আরও বলেন, একজন ক্রিকেটারের পক্ষে সব সংস্করণের ম্যাচসংখ্যা আলাদাভাবে মনে রাখা সহজ নয়। তাই এই অর্জনের কথা জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হলেও একই সঙ্গে গর্বিত বোধ করেছেন।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন মান্ধানা। দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও তিনি বিশ্বাস করেন, ক্রিকেটে অতীতের ব্যর্থতা আঁকড়ে ধরে থাকার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচই নতুন শুরু। একজন ব্যাটার শতরান করুক কিংবা শূন্য রানে আউট হোক, পরবর্তী ইনিংস শুরু হয় একই জায়গা থেকে। দলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। ভালো সময় যেমন আসে, তেমনি কঠিন সময়ও আসে। গুরুত্বপূর্ণ হলো সেগুলো মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে টেস্ট ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। স্মৃতির মতে, দুই সংস্করণের মানসিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার চাপ থাকে, স্ট্রাইক রেট বড় বিষয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য, শট নির্বাচনের পরিপক্বতা এবং দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার মানসিক প্রস্তুতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, নারী ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার আগে মানসিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। পার্থে গোলাপি বলের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিন পর পরিচিত পরিবেশে ফিরে আসার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনেও গত বছর নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে স্মৃতি মান্ধানাকে। তবে সেই প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিলেন তিনি। লর্ডসে ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন ইতিহাস গড়ার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, ভারতীয় নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য