চীনের বিরুদ্ধে ভিসা কড়াকড়ির প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফেরত নিতে চীনের অনীহার কারণে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, চীন যদি দ্রুত তাদের নথিবিহীন নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কার্যক্রম পুনরায় শুরু না করে, তাহলে ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে প্রথমে চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি বৃদ্ধি, ভিসা বাতিলের হার বাড়ানো এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ চীনা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফর নির্ধারিত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সফরটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে চীনের কাছ থেকে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। এমন এক সময়ে দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদকালে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন।

মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি নথিবিহীন চীনা নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আদালত ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না।

২০২৫ সালে কয়েক দফায় প্রায় তিন হাজার চীনা নাগরিককে ফেরত নেওয়া হলেও গত ছয় মাস ধরে এ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সময়ের মধ্যে একজন নাগরিককেও ফেরত নেয়নি বেইজিং। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিং পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এ বিষয়ে পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈধ চীনা দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রক্রিয়াও কঠোর হতে পারে।

নিচে সংশ্লিষ্ট তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে নথিবিহীন চীনা নাগরিক১ লাখের বেশি
আদালতের ফেরত পাঠানোর নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি৩০ হাজারের বেশি
২০২৫ সালে ফেরত নেওয়া নাগরিকপ্রায় ৩ হাজার
গত ৬ মাসে ফেরত নেওয়া নাগরিকশূন্য
সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপভিসা ফি বৃদ্ধি, ভিসা বাতিল বৃদ্ধি, ভিসা নিষেধাজ্ঞা
ট্রাম্পের বেইজিং সফর১৪-১৫ মে

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।