খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৬:২২ পিএম

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। আজ শনিবার দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে মগবাজার, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন ও হাতিরপুলসহ এর আশপাশের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার একটি আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দুপুরের তীব্র তাপদাহের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বহুতল ভবনগুলোর বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা আটকা পড়েন ওপরের তলাগুলোতে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা-বাড়ি ও আবাসিক হোটেলগুলোতে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। অনেক এলাকায় পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থ রোগীরা প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকেন।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও। কারওয়ান বাজার ও মগবাজার এলাকার বিপণিবিতান, তৈরি পোশাকের শোরুম, রেস্টুরেন্ট এবং ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও দীর্ঘ সময় চলায় একপর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের জেনারেটরও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আইসক্রিম, হিমায়িত খাদ্যপণ্য এবং পচনশীল জিনিসপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। কয়েক ঘণ্টা বেচাকেনা বন্ধ থাকায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েন তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট অফিসের কর্মীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাকআপ ব্যবস্থা শেষ হয়ে অনেক অফিসের কম্পিউটার ও সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ওই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন ব্যবসা এবং ফ্রিল্যান্সারদের কাজ সাময়িকভাবে থমকে দাঁড়ায়।
এদিকে সড়কের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং মগবাজার মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সিগন্যাল বাতি কাজ না করায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়। এর ফলে ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মূল সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জানান, মূল সঞ্চালন লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরপরই তারা মেরামতের কাজ শুরু করেন। তবে ত্রুটির গভীরতা বেশি হওয়ায় সংযোগ সচল করতে কিছুটা সময় লেগেছে। বিকেল গড়ার পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এই ঢাকা শহরে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটিতে এমন দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ঠেকাতে সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দ্রুত বিকল্প ব্যাকআপ লাইনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য