জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

দুই পরিবারের বিরোধে ঝরল প্রাণ: টঙ্গীতে প্রতিবেশীদের সংঘর্ষে গ্রিন ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিহত

গাজীপুরের টঙ্গীতে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে হাসিব (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে আটক করেছে।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম টঙ্গীর পাগার এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল বুধবার রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার পাগার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত ও রাতভর হাসিবকে বাঁচানোর চেষ্টা

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, পাগার এলাকায় মঞ্জুরুলের বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী আরেকটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গতকাল রাতে সেই পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঞ্জুরুলের মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত থাকায় তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই তাঁকে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলে আজ ভোরে कर्तव्यরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজন

টঙ্গীর এই সংঘর্ষের ঘটনায় তিন হামলাকারীসহ মোট চারজন গুরুতর জখম হন। নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম বাদে বাকিদের মধ্যে পাগার এলাকার মো. আকাশ (২৫) ও ইমরান হাসান (২৪) এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ জোবায়ের হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তিনিও পাগার এলাকার বাসিন্দা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংঘর্ষে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য: টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে পাগার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর