সিলেটে পুকুরপাড়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে নিখোঁজের দুই দিন পর চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে এটি একটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পরিণত দুঃখজনক সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিহত শিশুটির নাম ফাহিমা আক্তার (৪)। সে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা সীমিত।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে ফাহিমা তার মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে স্থানীয় বাজারে বিস্কুট কিনতে বের হয়। এরপর থেকেই সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং আশপাশের এলাকাতেও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

দুই দিন পর শুক্রবার ভোরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাড়ির পাশের পুকুরের কাছে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথাও বলছেন।

নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা দেওয়া হলো—

সময় ও তারিখঘটনা
বুধবার, সকাল ১১টাফাহিমা ১০ টাকা নিয়ে বিস্কুট কিনতে বের হয়
বুধবার দুপুরের পরশিশু নিখোঁজ হওয়া নিশ্চিত হয়
বুধবার বিকেলপরিবারের খোঁজাখুঁজি শুরু
বুধবার সন্ধ্যাথানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়
শুক্রবার, সকাল সাড়ে ৬টাপুকুরপাড়ে মরদেহ উদ্ধার

স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুসন্ধান ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতে পারে।