খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। বৈশ্বিক বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার দামের পরিবর্তন শুধু ব্যাংকিং খাতেই প্রভাব ফেলে না, এর প্রভাব পড়ে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসার ওপরও। ফলে প্রতিদিনের বিনিময় হার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক—সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকায় ডলারসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান সীমিত পরিসরেই ওঠানামা করছে।
নিচে দিনের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার তুলে ধরা হলো—
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ইউরো | ১৪০ টাকা ২২ পয়সা |
| পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৫ টাকা ১১ পয়সা |
| চাইনিজ ইয়েন | ১৮ টাকা ০৪ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৮ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ২০ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৭ টাকা ৪৪ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৫১ পয়সা |
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবণতা, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ—এসব বিষয় প্রতিদিনের বিনিময় হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং প্রবাসী আয় প্রবাহের ধারাবাহিকতার কারণে সরকারি নির্দেশিত বিনিময় হার ও খোলাবাজারের দামের ব্যবধান আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে লেনদেন আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে এবং আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা ব্যয় পরিকল্পনা করতে তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন।
গত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই সীমিত ওঠানামা আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ, এলসি নিষ্পত্তি, কাঁচামাল আমদানি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের হিসাব এবং বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার ব্যয় পরিকল্পনাতেও স্থিতিশীল বিনিময় হার ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলারের চাহিদা-সরবরাহের পরিবর্তনও ভবিষ্যতে বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে লেনদেনের পরিবর্তন এবং ব্যাংকভেদে মূল্য নির্ধারণের কারণে একই দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তাই বিদেশে অর্থ পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মন্তব্য