খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিদ্যুৎসংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ৫ দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফেনীর সোনাগাজী থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় জুলাই পদযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে এই পদযাত্রার শুরুতেই রাজনৈতিক সংঘাতের চেনা ছবি সামনে এসেছে। উদ্বোধনী সমাবেশ চলাকালীন সভামঞ্চে দলের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আকস্মিক হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপির উপস্থিতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মঞ্চে উপস্থিত জেলা পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই উত্তেজনা মুহূর্তের মধ্যে রূপ নেয় চরম হাতাহাতিতে। প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে মঞ্চের ওপরই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা একে অপরের ওপর চড়াও হন। এতে সভাস্থলে উপস্থিত সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেন্দ্রীয় নেতারা মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করলে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানালে মঞ্চের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর সমাবেশের বাকি কার্যক্রম কোনোমতে স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার সময় সভামঞ্চে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ ও নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আবু বাকের মজুমদার। কেন্দ্রীয় এসব নেতাদের সামনেই স্থানীয় কর্মীরা যেভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঞ্চের ঝামেলা সামাল দেওয়া গেলেও সমাবেশের ভেতরের ক্ষোভ পুরোপুরি কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূল সমাবেশ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতারা যখন সভাস্থল ত্যাগ করেন, তার কিছুক্ষণ পরেই উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতার মধ্যে পুরনো বিরোধ চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এর জেরে মাঠের এক কোণায় আবারও কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্যসচিব মোশারফ হোসেনসহ উপস্থিত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মীরা দ্রুত এগিয়ে যান। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উপজেলা আহ্বায়কের বক্তব্য: এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটিকে বড় করে দেখতে রাজি নন। তিনি বলেন, “নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্রম বা সিরিয়াল নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সাময়িক এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন একটু-আধটু উত্তেজনা হতেই পারে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি সতর্ক থাকব।”
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম গণমাধ্যমকে জানান, এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই থানায় লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, সমাবেশস্থলের ভেতরে এনসিপির নেতা-কর্মীদের Restoration দুই পক্ষের মাঝে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুলিশ দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ জমা না দেওয়ায় পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়নি। লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এই ঘটনার পর সোনাগাজী এলাকায় রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য