খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই নভেম্বর ২০২৫, ৪:৪৪ পিএম

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, আপনার দেওয়া তথ্যগুলো সেই সময়ের একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরে। গত ১৩ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি ছিল বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম সংকটময় মুহূর্ত।
নিচে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো:
Table of Contents
২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল। পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রতিহত করার ডাক দেয়।
কর্মসূচি: আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর কবির নানকের বার্তা: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বিদেশ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
তৎপরতা: পলাতক নেতাদের নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও কিছু স্থানে নাশকতার চেষ্টা চালায়।
আওয়ামী লীগের এই লকডাউন কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়:
সতর্কতা: সারা দেশে পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়ানো হয় এবং স্পর্শকাতর এলাকায় সেনা মোতায়েন রাখা হয়।
গোয়েন্দা তৎপরতা: ককটেল বিস্ফোরণ বা অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতা ঠেকাতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়।
গ্রেপ্তার অভিযান: আন্দোলনের নামে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫; নভেম্বরের সেই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর আওয়ামী লীগের বড় ধরনের কোনো প্রকাশ্য তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যাতে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে।
মন্তব্য