খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৪৬ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘কুত্তা ফারুক’সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, সামুরাইসহ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের তথ্যদাতাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনাও করছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আদাবর থানা পুলিশ এই সাতজনকে আটক করে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চক্রের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুত্তা ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল গভীর রাতে একটি মুরগির ফার্মে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি আদাবর এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর গ্যাং নেতা বিল্লাল হোসেন ওরফে ভাইস্তা বিল্লাল এবং মউরা সোহেলের সহযোগীদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যদাতা বা সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রায়ই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে। এই ঘটনাতেও শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া চাপাতি, সামুরাই ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অস্ত্র অতীতে কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, অথবা নতুন কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা মামলা, অপরাধের ধরন এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শেখেরটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি থেকেই যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে শুধু গ্রেপ্তার করলেই যথেষ্ট নয়। অপরাধীদের অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহের পথ, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হতে পারে। তাদের মতে, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাতজনকে থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের সহযোগী, অর্থদাতা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য