খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

খুলনা মহানগরীর শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার ওপর ফেলে যাওয়া একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নৃশংস এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি প্রধান রাস্তার পাশে একটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন তারা। স্বাভাবিক মনে হলেও একটু কাছে যেতেই দেখা যায় বস্তার নিচ থেকে তাজা রক্ত গড়িয়ে রাস্তায় পড়ছে। বিষয়টি দেখে উপস্থিত লোকজনের মনে তীব্র সন্দেহ ও ভীতির সঞ্চার হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং খুলনা সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উপস্থিত উৎসুক জনতার সামনেই বস্তাটি খুলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তারা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহের নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে অন্য কোথাও শ্বাসরোধ করে বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অপরাধ আড়াল করতে এবং পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাতের অন্ধকারে এই নির্জন আবাসিক এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়।
তদন্তের অগ্রগতি ও সুরতহাল রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা সুরতহাল প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় জানার জন্য ইতিমধ্যেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষজ্ঞ ক্রাইম সিন টিমকে তলব করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে দ্রুতই তাঁর পরিচয় মিলবে বলে আশা করছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। আবাসিক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে রাতে ওই রাস্তায় সন্দেহভাজন কোনো যানবাহন বা ব্যক্তির আনাগোনা ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে।
মন্তব্য