খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শোকযাত্রায় শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক হাজার মানুষের ঢল নামে। সেখানে ধর্মীয় ও প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ বিমানযোগে ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নিহত হন। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তেহরানে তাঁর নিজস্ব কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় তিনি প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর তাঁর এই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
ইরাকে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পবিত্র শহর নাজাফ থেকে। সেখানে ইসলামের ঐতিহাসিক নানা স্থাপনা ও মাজার প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহের সামনে কড়া নিরাপত্তায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কারবালার পবিত্র চত্বরে। কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে সমবেত হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই শোকযাত্রায় ইরাক ও ইরানের শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিকেরা অংশ নেন। ইরাকের এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ বিমানে করে মরদেহ ইরানে নিয়ে আসা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার দাফনের জন্য মাশহাদ শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এবং पवित्र স্থান হিসেবে পরিচিত। মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং লাখো জনতার উপস্থিতিতে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খামেনির আকস্মিক বিদায় এবং তেহরানের সেই হামলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখনো অস্থিরতা চলছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করা হলেও ইরান শুরু থেকেই একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে নতুন নেতৃত্ব কাজ করছে। আজ মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মাশহাদসহ ইরানের বড় শহরগুলোতে কড়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির প্রশাসন।
মন্তব্য