খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ পিএম

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুরু করে বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিল থানার বিভিন্ন স্পট, বিশেষ করে যেখানে অপরাধীদের আনাগোনা বেশি বা মাদক কেনাবেচা হয়, সেসব এলাকা একযোগে ঘিরে ফেলে পুলিশ। আকস্মিক এই অভিযানে সন্দেহভাজন এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে। সেখানে পুলিশের অভিযানে ১৬ জন ধরা পড়েছে। এরপরই রয়েছে আদাবর থানা, যেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। এছাড়া শেরেবাংলা নগর থানা ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ নিজ নিজ এলাকা থেকে ৯ জন করে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৫ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত এই ৫১ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে সিংহভাগেরই বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অবৈধ মাদক কারবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় মাদক সরবরাহ করছিল, আবার কেউ কেউ রাতের আঁধারে পথচারীদের গতিরোধ করে মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঢাকা শহরকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশের এই ধরনের ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য