খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১২:০ এএম

দেশে হাম ও হামের মতো নানা উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ এবং ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭৪৫ জন প্রাণ হারালেন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেশের হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে একই সময়ে আরও ৭৯৬ জনের শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও চিন্তায় ফেলছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত কেবল হামের উপসর্গ নিয়েই মারা গেছেন ৬৫২ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শতভাগ হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন আরও ৯৩ জন। সব মিলিয়ে নিহতের এই সংখ্যা এখন সাড়ে সাতশর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় ঢাকা বিভাগে এই রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের এ পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিভাগেই হামের বিভিন্ন উপসর্গে ২৮৩ জন এবং ল্যাব টেস্টে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর ৫৭ জনসহ মোট ৩৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই বিভাগে সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়াকে এর বড় কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৪৮ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরাবরের মতো এবারও আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ; গত এক দিনে এখানকার হাসপাতালগুলোতে ২৬৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগেও এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬২ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৮৪ জন রোগী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য