খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পিএম

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় টানা চার দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এবং পাহাড়ধসের প্রবল আশঙ্কায় জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবারও (৯ জুলাই) জেলার কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বা পাঠদান হবে না বলে নিশ্চিত করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ওপর পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে বিভিন্ন স্থানে ধসের বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এমন বৈরী ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঘর থেকে বের হয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের বর্ষাকালে যাতায়াতে চরম বেগ পেতে হয়। এই বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষার্থীদের অনেক পাহাড়ি দুর্গম পথ, খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ও ছোট-বড় ঝিরি পায়ে হেঁটে পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। টানা বৃষ্টির কারণে এই ঝিরি ও ছড়াগুলোতে পানির বেগ অনেক বেড়ে গেছে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন করে ক্লাস চালু রাখা সমীচীন হবে না।
এর পাশাপাশি জেলার বানভাসি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা দুর্গত মানুষদের জীবন রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটির বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে স্থানীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে সেসব বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
সার্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রথমে বুধবারের পাঠদান স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়ার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবারও জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য