খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম

জাতীয় রাজনীতি ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের জেলাতেই যেখানে মাদক কারবার লাগামহীন, সেখানে তিনি কীভাবে পুরো দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এই বিরোধীদলীয় নেতা।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে স্থানীয় এক মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশের প্রধান বক্তা নাহিদ ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে খোদ জাতীয় সংসদের ভেতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের দলেরই একজন সংসদ সদস্য স্পষ্ট ভাষায় কক্সবাজারকে মাদক কারবারের সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারি দলের এমপির মুখ থেকেই যখন এই সত্য বেরিয়ে আসে, তখন আর বলার কিছু থাকে না।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নিজের চারণভূমি বা নিজ জেলাতেই মাদক সিন্ডিকেট ও অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সারাদেশে মাদক নির্মূল করার ঘোষণা নিতান্তই লোকদেখানো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একপ্রকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে বলব, আগে নিজের এলাকা কক্সবাজারে মাদক কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেখান। ঘরের সমস্যার সমাধান আগে করুন, তারপর সারা বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার কাজে হাত দিন। জনগণ মাঠের কাজ দেখতে চায়, শুধু মুখের কথা বা আশ্বাস নয়।”
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ / ব্যক্তি / কর্মসূচি | political পদবি বা পরিচয় | সমাবেশে ভূমিকা ও মূল বক্তব্য / অবস্থান |
| নাহিদ ইসলাম | আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। | সমাবেশের প্রধান বক্তা; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। |
| সালাহউদ্দিন আহমদ | দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। | সমালোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু; তার নিজ জেলা কক্সবাজারে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। |
| আখতার হোসেন | সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। | কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত থেকে দলীয় কর্মসূচির সংহতি প্রকাশ করেন। |
| সারজিস আলম | মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল), এনসিপি। | কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সমাবেশে যোগ দিয়ে মাঠের আন্দোলনকে বেগবান করার বার্তা দেন। |
| কক্সবাজার জেলা | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নিজ জেলা। | সংসদে সরকারি দলের এমপির বক্তব্য অনুযায়ী যাকে “মাদক কারবারের সূতিকাগার” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। |
| গাজীপুরের কালীগঞ্জ | সমাবেশের নির্দিষ্ট ভেন্যু বা স্থান। | যেখানে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মূল জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। |
| জুলাই গণঅভ্যুত্থান | ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন। | এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং এর মূল চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন। |
| জুলাই পদযাত্রা | এনসিপি-র একটি বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি। | সোমবার কালীগঞ্জ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হওয়া দলীয় পদযাত্রা। |
| মাসব্যাপী কর্মসূচি | এনসিপি-র কেন্দ্রীয় দলীয় পরিকল্পনা। | জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি। |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | দেশের একটি অন্যতম political দল। | দেশে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। |
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাসব্যাপী নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার কালীগঞ্জ থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়। পদযাত্রায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কালীগঞ্জের এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধারণ করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এনসিপি তাদের দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন সামনের দিনগুলোতেও রাজপথে অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য