খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম

নাহিদ রানার বিধ্বংসী ও রেকর্ড গড়া বোলিংয়ের পরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১১৬ রানে। ফলে প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের এক হতাশাজনক হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলটিকে। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে হারের পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুটাও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হলো।
ফলাফল: জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী (৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে)।
জিম্বাবুয়ে ইনিংস: ১৪১/১০ (৪৪.৩ ওভার)
সর্বোচ্চ ব্যাটার: নিউম্যান নিয়ামহুরি (৩৩), রিচার্ড এনগারাভা (২৬)।
সেরা বোলার: নাহিদ রানা (৬/২১), ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার।
বাংলাদেশ ইনিংস: ১১৬/১০ (৩৯.৫ ওভার)
সর্বোচ্চ ব্যাটার: নুরুল হাসান সোহান (৩১), তাওহীদ হৃদয় (২৪)।
সেরা বোলার: রিচার্ড এনগারাভা (৩/৩০), ব্রাড ইভান্স (৩/২৫)।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) হারারেতে টসে জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। রানার গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছিল না জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। একপর্যায়ে মাত্র ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। তবে জিম্বাবুয়ের লেজের সারির ব্যাটাররা দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ রানের জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।
এই ইনিংসে বল হাতে ইতিহাস তৈরি করেছেন বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানা। তিনি মাত্র ২১ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো বোলারের ব্যক্তিগত সেরা বোলিং ফিগার। রুবেল হোসেনের করা ২৬ রানে ৬ উইকেটের আগের রেকর্ডটি ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন রানা। তবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে রানার এমন রাজকীয় ও ঐতিহাসিক অর্জন শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে গেছে দলের ব্যাটারদের চরম দায়িত্বহীনতায়।
১৪২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল শুরু থেকেই উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে শামিল হয়। জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলীয় ১৭ রানের মধ্যেই ওপরের সারির ৩ জন ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে তাওহীদ হৃদয় এবং নুরুল হাসান সোহান প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। এই দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের একটি জুটি গড়ে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে জুটিটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। তাওহীদ হৃদয় আউট হওয়ার পর দ্রুতই বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষদিকে জিম্বাবুয়ের পেসারদের সাঁড়াশি আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার। মাত্র ৪২ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বল হাতে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্রাড ইভান্স ৩টি করে উইকেট নিয়ে ধস নামান। এছাড়া নিয়ামহুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানি পান দুটি করে উইকেট। বোলারদের এনে দেওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই এখন সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর দিকে তাকাতে হবে বাংলাদেশকে।
মন্তব্য