খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৮:১৪ পিএম

ফুটবলকে ঘিরে আবেগ ও উন্মাদনা মাঝে মাঝে কতটা ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারে, তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত দেখল কুষ্টিয়াবাসী। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রিয় দল ব্রাজিলের ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর চরম হতাশায় রতন (১৯) নামের এক তরুণ ফুটবল সমর্থক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ সোমবার উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র দুই মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানের জনক এই যুবকের এমন আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রতন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকার হোসেন মিস্ত্রীর সেজো ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রতনের শোবার ঘরের দরজা দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির লোকজনের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং তারা রার্ন্তিক ডাকডাকি শুরু করে। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের জানালায় উঁকি দেন। তখন তারা রতনকে ঘরের সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনরা দ্রুত ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রতনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের মুখে রতনের প্রশংসা শোনা গেছে। তিনি এলাকায় অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ফুটবল খেলা নিয়ে তাঁর আবেগ ছিল বাঁধভাঙা। তিনি ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন অন্ধ ভক্ত ছিলেন। চলমান ফুটবল টুর্নামেন্টে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের আকস্মিক পরাজয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, প্রিয় দলের এই হারের পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছিলেন এবং সারাক্ষণ বিষণ্নতায় ভুগতেন। খেলাধুলার এই অতি-উন্মাদনা ও হতাশা থেকেই তিনি এমন আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুস আলী তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, কয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন জানান, ওই যুবকের আত্মহত্যার খবর তিনি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল ফুটবল দলের পরাজয়ের ব্যবস্থাপনাই দায়ী নাকি অন্য কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল, তা তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি।
খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কুমারখালী থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর পেছনে কোনো ফাউল প্লে বা অন্য কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং দাফনের অনুমতি প্রদান করেছে। খেলা নিয়ে এই ধরনের আত্মঘাতী আবেগ পরিহার করতে পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন মহল যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য