খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও গণসমাবেশে হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যক্কারজনক হামলার পেছনে সরাসরি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দিয়ে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বোমা হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারে এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল এনসিপি। রাত পৌনে ১০টার দিকে মঞ্চে যখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চারদিক অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার পরপরই বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। আচমকা এই হামলায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাভারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং এনসিপি নেতৃত্বের প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো নিচে একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| ক্র. নং | ঘটনার বিবরণ ও প্রধান দিক | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণী |
| ১ | আয়োজক রাজনৈতিক দল | জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) |
| ২ | ঘটনাস্থল বা ভেন্যু | সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ |
| ৩ | ঘটনার তারিখ ও সময় | সোমবার (৬ জুলাই), রাত পৌনে ১০:০০ টা |
| ৪ | বোমা বিস্ফোরণের সময় মঞ্চের বক্তা | ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (আহ্বায়ক, ঢাকা জেলা এনসিপি) |
| ৫ | অভিযোগ উত্থাপনকারী শীর্ষ নেতা | নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ) |
| ৬ | প্রধান প্রাথমিক অভিযোগ | পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা হামলা |
| ৭ | যাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার দায় | স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং স্থানীয় এমপি |
| ৮ | ঘটনার পরবর্তী রাজনৈতিক আলটিমেটাম | দ্রুত বিচার না হলে স্থানীয় প্রশাসন ও এমপিকে জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি |
| ৯ | দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা | জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, সীমান্ত সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান আদায় |
| ১০ | কর্মসূচি নিয়ে দলের বর্তমান অবস্থান | ভয়ভীতি ও বোমাবাজি উপেক্ষা করে পদযাত্রা চলমান রাখার ঘোষণা |
বিস্ফোরণের রেশ কাটার পর উত্তেজিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ স্পষ্টভাবে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় হয়েছে। যদি তা না-ই হবে, তবে ঠিক সমাবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো?” তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে সশরীরে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার তথা খুনের নীল নকশা হিসেবেই এই অন্ধকার তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই হামলার সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে। কেন বিরোধী দলের সমাবেশে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলো না, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কী ভূমিকা পালন করছিলেন? তাদের অবহেলা বা নীরবতা এই সন্ত্রাসীদের আরও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এই কাপুরুষোচিত হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাভারের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণহত্যাকারী ও চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের পরিণতিও বিগত একনায়কতান্ত্রিক সরকারের মতোই ভয়াবহ হবে।
শত বাধা, ভয়ভীতি আর বোমাবাজি সত্ত্বেও এনসিপির এই জুলাই আন্দোলন থামবে না বলে ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের পদযাত্রা এবং কর্মসূচি যথানিয়মে চলমান থাকবে। জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, বিগত দিনের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।” এই ঘটনার পর সাভার এলাকায় থমথেমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য