জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী হলো নিউজার্সির রেড বুল অ্যারেনা। মাঠজুড়ে লাতিন আমেরিকান শৈল্পিক ফুটবলের পসরা সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটির খুনে স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্সে ব্রাজিলকে ২-১ গোল ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়েছে নরওয়ে। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করল ইউরোপের এই উদীয়মান দলটি। অন্যদিকে, আরও একবার অধরাই রয়ে গেল ব্রাজিলের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন।
Table of Contents
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটি রূপ নেয় এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেছিলেন নরওয়ের প্যাটট্রিক বার্গ। তবে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালে সে যাত্রা রক্ষা পায় সেলেসাওরা।
খেলার দশম মিনিটে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে নরওয়ের ডিফেন্ডার ফাউল করলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন নরওয়ের অতন্দ্র প্রহরী গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড। এরপর প্রথমার্ধের বাকিটা সময় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও কুনহার একের পর এক দূরপাল্লার শট নরওয়েজিয়ান ডিফেন্সে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে গতি বাড়াতে মাঠে নামেন নরওয়ের তরুণ উইঙ্গার অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ বস কার্লো আনচেলত্তি ৫৮তম মিনিটে কুনহাকে উঠিয়ে মাঠে নামান বিস্ময় বালক এন্দ্রিককে। মাঠে নামার ঠিক পরের মিনিটেই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতরে ফাঁকায় বল পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি, তার নেওয়া শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ৬২ ও ৬৩তম মিনিটে যথাক্রমে রায়ান এবং গুইমারেসের দুটি নিশ্চিত গোল একাই নস্যাৎ করে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার নাইল্যান্ড। গোলখরা কাটাতে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে মাঠে নামান আনচেলত্তি।
ম্যাচের সিংহভাগ সময় ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে রাখার পর শেষ ১০ মিনিটে শুরু হয় ‘আর্লিং হালান্ড শো’। ৭৯তম মিনিটে মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে উড়ে আসা নিখুঁত এক ক্রসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন হালান্ড। আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ের গ্যালারি।
ব্রাজিল যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই ৮৯তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডি-বক্সের বাইরে বল পান হালান্ড। সেখান থেকে তাঁর নেওয়া এক অবিশ্বাস্য বুলেট গতির শট ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়ে দেয় (২-০)। যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) ব্রাজিলের পক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি গোল পরিশোধ করেন নেইমার জুনিয়র। তবে তা কেবলই সান্ত্বনা বাড়িয়েছে। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটে নেয় নরওয়ে।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি এবং পরিসংখ্যান একনজরে দেখে নেওয়া যাক নিচের টেবিল থেকে:
| সময় (মিনিট) | দল | ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| ০৪’ | নরওয়ে | প্যাটট্রিক বার্গের গোল, কিন্তু অফসাইডের কারণে রেফারি বাতিল করেন। |
| ১০’ | ব্রাজিল | ডি-বক্সে ম্যাথিউস কুনহা ফাউলের শিকার হলে ভিএআর-এর মাধ্যমে পেনাল্টি লাভ। |
| ১০’ | ব্রাজিল | ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি শট রুখে দিলেন নরওয়ের কিপার ওরইয়ান নাইল্যান্ড। |
| ৪৫+’ | ব্রাজিল | মার্তিনেল্লি ও কুনহার দূরপাল্লার আক্রমণ নরওয়ে ডিফেন্স প্রতিহত করে। |
| ৪৬’ | নরওয়ে | একাদশে জোড়া পরিবর্তন; মাঠে নামলেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। |
| ৫৮’ | ব্রাজিল | ম্যাথিউস কুনহার পরিবর্তন হিসেবে মাঠে নামলেন তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিক। |
| ৫৯’ | ব্রাজিল | ভিনিসিয়ুসের চমৎকার পাস থেকে এন্দ্রিকের নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস। |
| ৬২’ | ব্রাজিল | রায়ানের জোরালো শট দুর্দান্ত সেভে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচালেন নাইল্যান্ড। |
| ৬৭’ | ব্রাজিল | সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র ও দানিলোর একসাথে মাঠে প্রবেশ। |
| ৭৯’ | নরওয়ে | আর্লিং হালান্ডের চোখধাঁধানো হেডে গোল, নরওয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। |
| ৮৯’ | নরওয়ে | ডি-বক্সের বাইরে থেকে হালান্ডের বুলেট গতির শটে দ্বিতীয় গোল (২-০)। |
| ৯৩’ | ব্রাজিল | পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার জুনিয়র (২-১)। |
মন্তব্য