খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম

বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবার তাদের অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে একই ম্যাচের টিকিট কয়েক হাজার পাউন্ডে পুনরায় বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে টিকিট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা এবং সমর্থকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে।
সোমবার শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কেনা কিছু টিকিট ফিফার অনুমোদিত রিসেল পোর্টালে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সমর্থকদের বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, আলোচিত টিকিটগুলো ইংল্যান্ড সাপোর্টার্স ট্রাভেল ক্লাবের সদস্যরা গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্যালটের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলেন। পরে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর বুধবার থেকে ওই ম্যাচের টিকিট পুনরায় বিক্রির সুযোগ চালু হয়। সেই সুযোগের পরই কিছু টিকিট অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে তালিকাভুক্ত করা হয়।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিবিসি-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি অভিযোগ করে, ফিফা এমন একটি অনলাইন টিকিট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে ফি আদায় করা হচ্ছে।
সংগঠনটির মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টিকিট সহজলভ্য রাখার পরিবর্তে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রকৃত দর্শকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে তারা এটিও উল্লেখ করেছে যে, যেসব সমর্থক নিজেরাই অযৌক্তিক দামে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করছেন, তাদের কর্মকাণ্ডও সমর্থনযোগ্য নয়।
বিশ্বকাপের টিকিট বরাদ্দ ও পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। সাধারণত নির্ধারিত ব্যালটের মাধ্যমে সমর্থকদের টিকিট দেওয়া হলেও, পরে কেউ ম্যাচে উপস্থিত হতে না পারলে ফিফার অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তা অন্য সমর্থকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ থাকে। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য টিকিটের কালোবাজারি রোধ করা হলেও, উচ্চমূল্যে পুনর্বিক্রয়ের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এর আগে টিকিটের মূল্য নির্ধারণে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির ভাষ্য, ভ্যারিয়েবল বা ডায়নামিক প্রাইসিং পদ্ধতি বর্তমানে ক্রীড়া ও বিনোদন শিল্পে বহুল ব্যবহৃত একটি ব্যবস্থা। চাহিদা, বিক্রির গতি এবং দর্শক উপস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে টিকিটের মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে প্রতিটি ম্যাচের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা যায় এবং স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চসংখ্যক দর্শক উপস্থিত থাকে।
তবে সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই নীতির ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর টিকিট সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীদের পরিবর্তে উচ্চমূল্য পরিশোধে সক্ষম ক্রেতারাই বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ও পুনর্বিক্রয় নিয়ে নতুন এই বিতর্ক ফিফার টিকিট নীতিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সমর্থকদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে কালোবাজারি রোধের পাশাপাশি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও যুক্তিসংগত মূল্যে বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করার সুযোগ পান।
মন্তব্য