খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম

বরিশালের হিজলা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৪০) পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হিজলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য এবং টাইমস অব বরিশাল পত্রিকার হিজলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিক মাসুদ সরদার জানান, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাকে অভিযোগ করেন যে, পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের একটি পুকুরে স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবেশবিধ্বংসী অবৈধ ড্রেজার, যা স্থানীয়ভাবে ‘আত্মঘাতী ড্রেজার’ নামে পরিচিত, ব্যবহার করে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং জমির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, তুষার মিয়াজী, আবুল বাশার, আল-আমিন মিয়াজী, ইমরান সরদার, মিজানুর রহমান, আবু-সাঈদ বাবু, আবু-আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ বিন কালামসহ আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
শুধু শারীরিক হামলাতেই ঘটনাটি সীমাবদ্ধ ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন মাসুদ সরদার। তিনি জানান, হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা জোর করে ছিনিয়ে নেয়, সেটি ভাঙচুর করে এবং পরে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। এতে তার পেশাগত সরঞ্জামেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিনের একটি পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী, খাল বা জলাশয় এবং ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ভূমিধস, সড়ক ও সেতুর ক্ষতি, কৃষিজমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়া এবং বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আইন অনুযায়ী বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি তুষার মিয়াজীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুলাইমান হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক মাসুদ সরদারের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা এক বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য