খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ পিএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। গভীর খাদে যাত্রীবাহী একটি বাস পড়ে গেলে এ মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। শুক্রবার শেরানি জেলা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন, কারণ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতির নির্দেশে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুর্ঘটনাস্থলের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া—দুই প্রদেশের জেলা প্রশাসন, জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেরানির ডেপুটি কমিশনার ওয়ালি খান কাকার জানান, বাসটি কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে পথে বিকল হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের কয়েকজন যাত্রী একই বাসে উঠে পড়েন। ফলে দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জরুরি সেবা সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। দুই পক্ষের তথ্যের এই পার্থক্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঝোব জরুরি সেবা বিভাগ ও রেসকিউ ১১২২-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত আটজনকে ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের মরদেহ প্রথমে নিকটবর্তী একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে সেগুলো ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যাতে পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করতে বাসটির যান্ত্রিক অবস্থা, চালকের নিয়ন্ত্রণ, সড়কের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা প্রকাশ করে বলেন, উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বেলুচিস্তান সরকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পাশে রয়েছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্গম সড়ক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁককে কেন্দ্র করে প্রায়ই বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
মন্তব্য