খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ পিএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মাঠে নামছে দুই পরাশক্তি স্পেন ও অস্ট্রিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেমোরিয়াল কলোসিয়াম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই জমজমাট লড়াইয়ে কাগজ-কলমে স্পেনকে পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হলেও অস্ট্রিয়া তাদের চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে বড় অঘটন ঘটাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। নকআউট পর্বের সমীকরণ সব সময়ই আলাদা, যেখানে একটি মাত্র ভুল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে যেকোনো দলকে। তাই এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সেরা কৌশল নিয়ে মাঠে নামবে।
Table of Contents
গ্রুপ পর্বে স্পেনের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অনবদ্য ও রক্ষণভাগে নিশ্ছিদ্র। তিন ম্যাচের একটিতেও কোনো গোল হজম করেনি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।
দলের আক্রমণভাগে তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল এবং মাঝমাঠে পেদ্রি ও রদ্রির অসাধারণ বোঝাপড়া স্পেনকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। তবে নকআউটের এই মহাযুদ্ধের আগে স্প্যানিশ শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার হাওয়া বইছে। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন দুই ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস ও ইয়েরেমি পিনো। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গারের অনুপস্থিতি স্পেনের আক্রমণভাগের ধার কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা চাপের মধ্যে খেলতে পছন্দ করি। আমাদের ওপর ফুটবলপ্রেমীদের যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে, সেটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি। এখন সময় এসেছে মাঠে পারফর্ম করে সেই প্রত্যাশা পূরণ করার, কারণ নকআউট পর্বে কোনো ভুল করার সুযোগ নেই।” অস্ট্রিয়াকে সমীহ করে তিনি যোগ করেন, “অস্ট্রিয়া শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী দল। রালফ রাংনিকের অধীনে তারা দারুণ গতিশীল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। তবে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া।”
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার যাত্রাটা খুব একটা মসৃণ ছিল না; তাদের পারফরম্যান্সে ছিল বেশ ওঠানামা। প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারালেও পরের ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে পরাস্ত হতে হয় তাদের। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার সঙ্গে নাটকীয় ৩-৩ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাসা কালাজদিচের দুর্দান্ত গোলটিই মূলত তাদের নকআউট পর্বের টিকিট এনে দেয়।
প্রখ্যাত কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া মূলত ‘হাই প্রেসিং’ এবং বিদ্যুৎ গতির ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা প্রতি-আক্রমণের ওপর ভর করে খেলে। মাঝমাঠে মার্সেল সাবিৎসার এবং অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মার্কো আর্নাউটোভিচের উপস্থিতি দলটিকে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য জোগায়।
ম্যাচে যে স্পেন ফেভারিট, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। তবে আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামলেও জয়ের ব্যাপারে তিনি দারুণ আশাবাদী। রাংনিক বলেন, “বাস্তবতা হলো আমরা এই ম্যাচে আন্ডারডগ। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে দশটি ম্যাচ খেললে হয়তো সাত-আটটিতেই আমাদের হারতে হবে। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আজকের ম্যাচটি সেই বাকি দুই ম্যাচের একটি হয়।” তিনি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করে বলেন, “আমাদের হারানোর কিছু নেই, কিন্তু পাওয়ার আছে অনেক কিছু। ছেলেদের মাঠে জীবন বাজি রেখে লড়তে হবে এবং দৌড়াতে হবে।”
আজকের ম্যাচে স্পেন বরাবরের মতোই বলের দখল (পজিশন) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তবে স্পেনের হাই-লাইন ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিতে ওত পেতে থাকবে অস্ট্রিয়ার গতিময় ফরোয়ার্ড লাইন। স্পেনের মাঝমাঠের আধিপত্য ভাঙতে অস্ট্রিয়া শুরু থেকেই মাঝমাঠে কড়া প্রেসিং করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে এই রোমাঞ্চকর লড়াই। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেশি, কারণ আজ লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ম্যাচে যে দল শেষ হাসি হাসবে, তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইতে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার।
স্পেন ও অস্ট্রিয়ার নকআউট পর্বে আসার পথ এবং দল দুটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচে ১০টি তথ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | দলের নাম ও পরিসংখ্যানের বিবরণ | গ্রুপ পর্বের ম্যাচ / প্রতিপক্ষ | ফলাফল ও অর্জন |
| ১ | স্পেন (প্রথম ম্যাচ) | বনাম সৌদি আরব | ৪-০ ব্যবধানে জয় |
| ২ | স্পেন (দ্বিতীয় ম্যাচ) | বনাম উরুগুয়ে | ১-০ ব্যবধানে জয় |
| ৩ | স্পেনের রক্ষণভাগের রেকর্ড | গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ | কোনো গোল হজম করেনি |
| ৪ | স্পেনের আক্রমণের মূল অস্ত্র | তরুণ ও মাঝমাঠের তারকা | লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি ও রদ্রি |
| ৫ | স্পেনের ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড় | আক্রমণভাগের উইঙ্গার | নিকো উইলিয়ামস ও ইয়েরেমি পিনো |
| ৬ | অস্ট্রিয়া (প্রথম ম্যাচ) | বনাম জর্ডান | ৩-১ ব্যবধানে জয় |
| ৭ | অস্ট্রিয়া (দ্বিতীয় ম্যাচ) | বনাম আর্জেন্টিনা | পরাজয় |
| ৮ | অস্ট্রিয়া (তৃতীয় ম্যাচ) | বনাম আলজেরিয়া | ৩-৩ গোলে নাটকীয় ড্র |
| ৯ | অস্ট্রিয়ার নকআউট নিশ্চিত করা গোলদাতা | গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ | সাসা কালাজদিচে |
| ১০ | অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ও প্রধান দুই তারকা | মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ | মার্সেল সাবিৎসার ও মার্কো আর্নাউটোভিচ |
মন্তব্য