খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

আগামী অক্টোবরের শুরু থেকেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনে যাঁরা প্রথমবারের মতো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার বিশেষ সুযোগ রাখছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচন কমিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নতুন ভোটার হওয়ার আবেদনের সময়সীমা প্রথমে ৩০ জুন পর্যন্ত রাখার পরিকল্পনা করেছিল কমিশন। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তবসম্মত সুপারিশ ও নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পরবর্তীতে এই সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অক্টোবর থেকে ভোট উৎসব শুরু করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে। তবে নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ কমিশনের নিজস্ব। সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠিও আসেনি।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে এবারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনের দিক থেকে কোনো জটিলতা নেই। তবে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এখনই কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই মূলত জেলা ও উপজেলা পরিষদের ভোটার বা সদস্য হন। তাই আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে আগে ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্বাচন শেষ করতে হবে, তারপরই কেবল উপজেলার ভোটগ্রহণ করা সম্ভব।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হলেও ইউনিয়ন পরিষদগুলো এখনো সচল রয়েছে। আগামী অক্টোবরে ভোটের জন্য কমবেশি ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ পুরোপুরি নির্বাচন উপযোগী হয়ে উঠেছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ কত ধাপে সম্পন্ন করা হবে এবং প্রতি ধাপের মধ্যে কত দিনের ব্যবধান রাখা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ ও গবেষণা করছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভোট আয়োজনে কমিশনের লজিস্টিক বা প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনো খামতি নেই। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ কেনার লক্ষ্যে সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসের অনুকূলে প্রয়োজনীয় বাজেটও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধিমালা সংশোধনের কাজও সমান্তরালে চলছে। এই আচরণবিধির খসড়ার ওপর জনমত ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশের ৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং ৫ জন সচেতন ব্যক্তি তাঁদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। বর্তমানে ইসির আইনি শাখা এই মতামতগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধির খসড়া চূড়ান্ত করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
আগে একটি প্রচলিত নিয়ম ছিল যে, প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে কেবল একবারই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করত কমিশন। তবে আইনি সংস্কারের পর এখন নির্বাচন কমিশন চাইলে বছরের যেকোনো সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এই আইনি স্বাধীনতার কারণেই মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জুলাই মাসজুড়ে ভোটার হওয়ার এই সুযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। নিচে দেশের বর্তমান ভোটারদের একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | ভোটার ক্যাটাগরি ও পরিসংখ্যানের বিবরণ | মোট ভোটারের সংখ্যা (জন) |
| ১ | দেশের সর্বমোট নিবন্ধিত ভোটার | ১২,৮৩,২৩,২৪০ |
| ২ | মোট পুরুষ ভোটার | ৬,৫২,১২,৭৩১ |
| ৩ | মোট নারী ভোটার | ৬,৩১,MD,২৬৬ |
| ৪ | মোট হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার | ১,২৪৩ |
| ৫ | ভোটার হওয়ার পরিবর্তিত শেষ সময়সীমা | ৩১ জুলাই, ২০২৬ |
| ৬ | নির্বাচন শুরু করার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা | অক্টোবর, ২০২৬ |
| ৭ | বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী মোট ইউনিয়ন পরিষদ | প্রায় ৪,০০০টি |
| ৮ | আচরণবিধির খসড়ায় মতামত দেওয়া রাজনৈতিক দল | ৬টি |
| ৯ | আচরণবিধির খসড়ায় মতামত দেওয়া ব্যক্তি | ৫ জন |
| ১০ | ব্যালটের কাগজ কেনার বাজেট অনুমোদনকারী সংস্থা | নির্বাচন কমিশন (ইসি) |
মন্তব্য