খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সমজাতীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মোট পাঁচ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং রোগীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন দিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও বেশি নিরাপদ, বাধাহীন ও জনবান্ধব করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ১০ জন করে প্রশিক্ষিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। যেসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই কিছু আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন, সেগুলোকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ, পূর্বের সদস্য সংখ্যা যাই থাকুক না কেন, আজ থেকে প্রতিটি কমপ্লেক্সে মোট ১০ জন আনসার সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে আজ থেকেই এই মোতায়েন কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে এবং কাজ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই বিশাল বাহিনীর নিরাপত্তার পেছনে বড় অঙ্কের প্রশাসনিক ব্যয়ের হিসাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই পাঁচ হাজার আনসার সদস্যের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার জন্য বছরে মোট ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। এই অর্থ সাধারণত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খাত থেকে যাওয়ার কথা থাকলেও, এবার কিছুটা ব্যতিক্রম করা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব নির্ধারিত বাজেট কোড থেকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতে এই আনসার সদস্যদের সমস্ত বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়মিত পরিশোধ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এই জরুরি নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সব দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছিল। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝামেলার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় দালাল চক্র এবং বহিরাগতদের উপদ্রবের কারণে অনেক সময় নারী চিকিৎসক ও সেবিকারা গভীর রাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি এই নতুন উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র বদলে দেবে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র বা লাঠিধারী আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকলে বহিরাগতদের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ কমে যাবে। এর ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি ভীতিহীন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই শান্তিময় পরিবেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।
মন্তব্য